অত্যাধুনিক রান্নাঘর.. কাজ কমাবে, আরাম বাড়াবে।
কোথায় নেই আজকাল প্রযুক্তির হামলা? অফস ঘর থেকে মুরু করে বৈঠকখানা পর্যন্ত সবখানে প্রযুক্তি। এর মাঝে নতুন মাত্র যোগ করেছে স্যালটন ইনকর্পোরেট নামে ব্র্যান্ডেড গৃহস্থালী পণ্যের একটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান।
স্যালটন ইনকর্পোরেট ‘বিয়ন্ডকানেক্টেড’ ব্র্যান্ড নাম নিয়ে বিভিন্ন গৃহস্থালী পণ্য তৈরি করছে। তবে কেবল এটাই যদি ঘটনা হত তাহলে এটা কোনো খবর হত না। এটা একটা বিরাট খবর, কারণ এগুলো কোনো সাধারণ গৃহস্থালী পণ্য নয়। এসব পণ্য একটি আরেকটির সঙ্গে নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযুক্ত করা যায়, তাছাড়া অতি অগ্রসর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এটা আমাদের গার্হস্থ্য জীবনকে করে তুলতে পারে অবিশ্বাস্য রকমের আরামপ্রদ।
বিয়ন্ড-এর বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে আছে বিয়ন্ডকানেক্টেড আইসবক্স কাউন্টারটপ, বিয়ন্ড মাইক্রোওয়েভ, বিয়ন্ড ব্রেডমেকার, বিয়ন্ড কফিমেকার এবং বিয়ন্ড হোম হাব। বিয়ন্ডকানেক্টেড প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বাড়িতে উপরোক্ত এসব পণ্য একটি আরেকটির সঙ্গে মিলে তৈরি করবে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। পরস্পরের মধ্যে ডাটা আদানপ্রদান এবং অগ্রসর প্রযুক্তির কারণে এসব পণ্য জানবে কখন কোন কাজ করতে হবে এবং কিভাবে। এগুলো নেটওয়ার্কের বাইরেও সাধারণ পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তবে পরস্পর নেটওয়ার্ক করা হলেই এগুলোর আসল শক্তির প্রকাশ পাবে।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অ্যাকসেস, টেলিভিশন, ডিভিডি এবং সিডি প্লেয়ার, এফএম রেডিও এবং হোম ভিডিও মনিটরিং সামর্থ্যসম্পন্য এসব পণ্য তথ্য, যোগাযোগ এবং বিনোদনের সমন্বয়ে গৃহস্থালী কাজকে করে তোলে একেবারেই সহজ। উদাহরণস্বরূপ বিয়ন্ড মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কথা বলা যায়। খাবারের ওপর নির্দিষ্ট বারকোড একবার বুলিয়ে নিলেই এই ওভেন নিখুঁতভাবে ঐ খাবার রান্না করে ফেলে। এরকম ৪০০ খাবার আইটেমের বারকোড সেটিং আছে এই ওভেনের মধ্যে। শুধু তাই নয়। হোম হাব অথবা আইসবক্স কাউন্টারটপের সঙ্গে নেটওয়ার্ক করা হলে এটি প্রতিনিয়িত আরো নতুন নতুন আইটেমের তথ্য দিয়ে নিজের মেমোরিকে সমৃদ্ধ করতে থাকে। একইভাবে দারুন কাজ করে বিয়ন্ড ব্রেডমেকারও। এতে রুটি থেকে শুরু করে কেক পর্যন্ত কয়েক’শ খাদ্যদ্রব্যের ইউপিসি বারকোড অন্তর্ভুক্ত করা আছে। ওভেনের মধ্যে মালমশলা ঢুকিয়ে প্রোগ্রাম চালালেই অ্যাকশন শুরু হয়ে যাবে।
গ্যাজেটগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক করা থাকলে এভাবেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইউপিসি কোড এতে প্রবেশ করতে থাকবে, আর এর বেকিং করার সামর্থ্যও বাড়তে থাকবে তার সঙ্গে। বিয়ন্ড কফিমেকারেরও আছে অনেক গুণ। অতি ব্যস্ত মানুষজন নিজেদের ব্যস্ত সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে এটিকে সপ্তাহের সাত দিনের জন্য প্রোগ্রাম করে রাখতে পারেন। ইচ্ছে করলে একেক দিন একেক স্বাদেও কফি তৈরির জন্যও আগে থেকে প্রোগ্রাম করে রাখা যাবে একে। কাজেই ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘর থেকে বেরোনো পর্যন্ত যে কোনো নির্দিষ্ট সময়েই যাতে তিনি না চাইতেও হাতের কাছে রেডিমেড কফি পেয়ে যান সে ব্যবস্থা করে রাখা যাবে।
চমৎকার জিনিস এগুলো। তবে সবকিছু কি প্রযুক্তি দিয়ে ভরিয়ে ফেলার দরকার আছে? প্রযুক্তির উপরে এতটা নির্বরশীলতা আমাদের কি কিছুটা হলেও ঝুকির মুখে ফেলছে না?
0 comments:
Post a Comment