পরিচয় নিশ্চিতকরন প্রযুক্তি এখন মোবাইল ডিভাইসেও।
পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি অনেক আহগ থেকেই কার্যকর। ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার বা স্কানারের সাহায্যে ব্যবহারকারীদের শারীরিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তাদের পরিচয় চিহ্নিত করে তাদেরকে নানারকম সুযোগ সুবিধা বা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। তবে পিডিএ, নোটবুক কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে এই বায়োমেট্রিক্স সিকিউরিটি ব্যবহার ততটা প্রচলিত নয়।
অতি সম্প্রতি ‘সিকিউরফোন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান মানুষের বায়োমেট্রিক্স বৈশিষ্ট্যাবলীর প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারকে আরো সহজ করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বায়োমেট্রিক্স-এর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রদান করে যাতে সহজে মোবাইল পণ্য ব্যবহার করা যায় সেটিই নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি সমন্বয়ক রবার্টো রিসি বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি, এ মুহূর্তে মোবাইল ডিভাইসের জন্য এমন কোনো বায়োমেট্রিকালি এনাবলড ডিজিটাল স্বাক্ষর পদ্ধতি নেই যেটি ঐ ডিভাইসের সিম কার্ডে ব্যবহারকারীর সমস্ত স্পর্শকাতর তথ্য সংরণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।’ বায়োমেট্রিক্স উপাত্ত যেহেতু কখনোই ঐ ডিভাইসের সিম কার্ড থেকে মুছে যাবে না এবং পরিচয় শনাক্তকরণ মডিউল ছাড়া যেহেতু এটিতে অ্যাকসেস নেয়াও সম্ভব নয় সেহেতু এই ডিভাইসে ব্যবহারকারীর বায়োমেট্রিক প্রোফাইল থাকবে পুরোপুরি নিরাপদ। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
যদিও অধুনা জিএসএম, জিপিআরএস এব ইউএমটিএস মোবাইল সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি যোগাযোগ অবকাঠামোগুলো যোগাযোগের পদ্ধতি যথেষ্ট নিরাপদ ও কার্যকর, ইউজার আইডেন্টিফিকেশন-এর জন্য কিন্তু এদের খুব শক্তিশালী ও নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে কোনোরকম অথেনটিকেশন ছাড়াই যে কেউ যে কারো কাছে টেক্সট, অডিও বা ইমেজ ফাইল পাঠাতে পারে। ফলে ফোনে কথা বলার সময় আপনার পক্ষে একশ ভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা সম্ভব নয়, ফোনের ওপার থেকে যিনি কথা বলছেন এর আগে তার সঙ্গে আপনার সাক্ষাৎ হয়েছিল কি না অথবা তিনি নিজেকে যে ব্যক্তি বলে দাবি করছেন আদপেই তিনি সে ব্যক্তি কি না।
এসব কারণে যেখানে আইনী বৈধতার প্রশ্ন আসবে সেখানে এ ধরনের যোগাযোগ শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, কারণ এখানে অনুমানের ব্যাপার আছে। অথচ ডিজিটাল স্বাক্ষরসম্পন্য এবং অথেনটিকেটেড ভয়েস রেকর্ডিং-এর আইনী বৈধতা যেমন আছে তেমনি যোগাযোগকারীর পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হবার জন্যও এটি কার্যকর। সিকিউর ফোনের প্রযুক্তিটির দুটি দিক। প্রথমটি হচ্ছে এর অথেনটিকেশন মডিউল, যেটি বায়োমেট্রিকস সিকিউরিটি অ্যাপিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়। এর ফলে তারা প্রবেশ করতে পারে দ্বিতীয় মডিউলে, যা একটি পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে ডাটায় ডিজিটাল স্বার প্রদান করে।
আজকালকার তথ্য সমাজে পরিচয় যে ভীষন গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয় তা বোধহয় না বললেও চলে। জাল পরিচয় ব্যবহার করে কত যে অপরাধ হচ্ছে, তা একটু সচেতন হলেই জানা সম্ভব। এই সময়ে, বিশেষ করে যখন আমরা মোবাইলের উপরে বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, সে সময়ে মোবাইল অথেন্টিকেশন অনেক দরকারী একটি প্রযুক্তি, তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
0 comments:
Post a Comment