Search This Blog

কোথায় আছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সব সুপার-কম্পিউটার?

Tuesday, August 16, 2011

আপনি কি জানেন, কোথায় আছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সব সুপার-কম্পিউটার?

সুপার কম্পিউটার ইন্টারফেস



সুপারকম্পিউটার। টেকনোলজি সম্বন্ধে ন্যূনতম ধারণা বা আগ্রহ আছে অথচ সুপারকম্পিউটার নামটি শোনেনি এমন কেউ আছে কিনা আমাদের জানা নেই। ক্ষমতা, শক্তি আর গুরুত্বে সাধারণ ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের সঙ্গে সুপারকম্পিউটারের ব্যবধান আকাশ আর পাতালের চাইতেও বেশি।

কিন্তু একটা প্রশ্ন কি আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায় না: কোথায় আছে পৃথিবীর সুপারকম্পিউটারগুলো? আর এদের মধ্যে যেগুলো সবচেয়ে সেরা সেগুলোই বা কোথায় আছে? আসুন, জানার চেষ্টা করা যাক।
.
বিশ্বের সবচেয়ে মতাশালী ১০টি সুপারকম্পিউটারের অবস্থান

১. তিয়ানহে- চিন
২. জাগুয়ার- যুক্তরাস্ট্র
৩. রোডরানার- যুক্তরাস্ট্র
৪. ক্রাকেন এক্সটিফাইভ-যুক্তরাস্ট্র
৫. জুগেন-জার্মানি
৬. পেইডেস- যুক্তরাস্ট্র
৭. বুজিন/ এল সল্যুশন- যুক্তরাস্ট্র
৮. বুজিন/ পি সল্যুশন- যুক্তরাস্ট্র
৯. রেনজার- যুক্তরাস্ট্র
১০. রেড স্কাই- যুক্তরাস্ট্র

তথ্যটা জেনে কেউ খুব একটা অবাক হবেন বলে মনে হয় না। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সুপারকম্পিউটারটি এখন চায়নাতে। বাকি দুটো আছে যুক্তরাস্ট্র আর জার্মানিতে। কাজেই দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে মতাশালী সুপারকম্পিউটারের শতকরা ৮০ ভাগই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে চিনও একটা অবস্থান করে নিচ্ছে ধীরে ধীরে।

আচ্ছা, আমরা যদি দৃষ্টির সীমাকে আরেকটু প্রসারিত করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৫০০ সুপারকম্পিউটারের খোঁজ করি তাহলে কি ঘটবে? আসুন দেখা যাক।

দেশ অনুযায়ী সুপারকম্পিউটার

বিশ্বের সেরা ৫০০টি সুপারকম্পিউটারের খোঁজ করলে দেখা যাবে, কেবল টপটেনই নয়, ৫০০ সেরা সুপারকম্পিউটারের তালিকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক আধিপত্য; যদিও টপ টেনের মত আধিপত্যটা এখানে অতটা একচেটিয়া নয়। বিশ্বের সেরা ৫০০টি সুপারকম্পিউটারের অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।
পরিসংখ্যানটা এরকম:
যুক্তরাষ্ট্র – ২৭৭,
যুক্তরাজ্য – ৪৫,
জার্মানি – ২৭,
ফ্রান্স – ২৫,
চিন – ২১,
জাপান – ১৬,
কানাডা – ৯,
অস্ট্রিয়া – ৮,
নিউজিল্যান্ড – ৮,
রাশিয়া – ৮,
বাদবাকি সব দেশ – ৫৫।
সেরা ৫০০-র তালিকাকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এসব কম্পিউটারের শতকরা ৮৯ ভাগই আছে মাত্র ১০টা দেশে। এখানে একটা মজার তথ্য জানাতেই হবে। নিউজিল্যান্ডের ৮টি সুপারকম্পিউটারের ৭টিই আছে ওয়েটা ডিজিটাল নামে একটি ভিজুয়াল ইফেক্টস কোম্পানিতে। চিত্র পরিচালক পিটার জ্যাকসনের মালিকানাধীন এই কোম্পানি লর্ড অব দি রিংস, কিংকং এবং অ্যাভেটর-এর মত সিনেমার ভিজুয়াল ইফেক্টস তৈরির জন্য বিখ্যাত।
সুপারকম্পিউটারের এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণ
আচ্ছা, আমরা যদি দেশের ভিত্তিতে না তাকিয়ে এলাকা বা অঞ্চলভিত্তিক বিশেষণ করি তাহলে কি দাঁড়াবে? যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সেহেতু সে মহাদেশেই সবচেয়ে বেশ সুপারকম্পিউটার থাকবে তাতে আর আশ্চর্য কি!
পরিসংখ্যানটা জেনে নিই।
উত্তর আমেরিকা – ২৮৬,
ইউরোপ – ১৫২,
এশিয়া – ৪৫,
ওশেনিয়া- ৯,
মধ্যপ্রাচ্য – ৬,
আফ্রিকা – ১,
দণি আমেরিকা – ১

ওশেনিয়া অঞ্চলের মোট ৯টি সুপারকম্পিউটারের মধ্যে ৮টিই আছে নিউজিল্যান্ডে, মাত্র একটি আছে অস্ট্রেলিয়ায়। মধ্যপ্রাচ্যে মোট সুপারকম্পিউটার আছে ৬ টি। এর মধ্যে সৌদি আরবে আছে ৪ টি, আর ইসরায়েলে আছে ২ টি। গোটা আফ্রিকা মহাদেশে সুপারকম্পিউটার আছে মাত্র ১টি, দক্ষিন আফ্রিকায়। একইভাবে গোটা দক্ষিন আমেরিকা মহাদেশেও সুপারকম্পিউটার আছে সাকুল্যে একটিই, ব্রাজিলে।
সুপারকম্পিউটারের আরো পরিসংখ্যান

আসুন এবার দেখা যাক, সুপারকম্পিউটারগুলো কোন অপারেটিং সিস্টেমকে পছন্দ করে। নিচের হিসাবটি বিশ্বের সেরা ৫০০টি সুপারকম্পিউটারের।

১ লিনাক্স (৮৯.২%)
২ ইউনিক্স (৫.৫%)
৩ মিশ্রিত (৪.৬%ঃ
৪ উইন্ডোজ (১%)
৫ বিএসডিভিত্তিক (০.২%)

বুঝতেই পারছেন, লিনাক্সের অবস্থা এখানে ‘বাংলা বিহার উড়িষ্যার মহান অধিপতি’ টাইপের। প্রতিদ্বন্দ্বী বলে কিছু নেই। অন্যান্য সেক্টরে লিনাক্স উইন্ডোজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে যত জল ঘোলাই হোক এখানে লিনাক্স-এর দাপটে উইন্ডোজকে ভেজা বেড়ালের মতই লেজ গুটিয়ে থাকতে হচ্ছে। সেরা ৫০০টি সুপারকম্পিউটারের মধ্যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সংখ্যা মাত্র ৫টি!
সুপারকম্পিউটারের নির্মাতারা

কেউ কেউ হয়ত ভাবা শুরু করেছেন: কোথায় পাব তারে, সুপারকম্পিউটার বানায় যে রে! যদি মনে করেন আপনার নিজেরই একটি সুপারকম্পিউটার কেনার সামর্থ্য আছে তাহলে মহাশক্তিশালী এই কম্পিউটিং ডিভাইসটির জন্য আপনাকে যেতে হবে সুপারকম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠনগুলোর কাছে। আসুন, দেখে নিই টপ টেন সুপারকম্পিউটার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম।

১ এইচপি (হিউলেট প্যাকার্ড) (৪১.৮%)
২ আইবিএম (৩৭%)
৩ ক্রে (৩.৮%)
৪ এসজিআই (৩.৮%)
৫ ডেল (৩.২%)
৬ সান মাইক্রোসিস্টেমস (২.২%)
৭ অ্যাপ্রো ইন্টারন্যাশনাল (১.২%)
৮ ফুজিৎসু (১.০%)
৯ বুল এসএ (১.০%)
১০ হিটাচি (০.৬%)

আর বাকি যেসব ভেন্ডর আছে এরা সবাই মিলে বানায় শীর্ষ ৫০০-র মাত্র ৪.৪ শতাংশ সুপারকম্পিউটার। মানে টপ টেন মিলে মোট সুপারকম্পিউটারের মোট ৯৫ শতাংশেরও বেশি বানায়! এখানে একটা কথা জেনে রাখা উচিত। এইচপি যদিও সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশ সুপারকম্পিউটার বানায়, বিশ্বের সর্বাপেক্ষা দ্রুত দুটো সুপারকম্পিউটার কিন্তু বানিয়েছে আইবিএম এবং ক্রে। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, বিশ্বের মোট সুপারকম্পিউটারের অর্ধেকেরও বেশি এবং সেরা ১০টির আটটিকেই বগলদাবা করে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মনে রাখতে হবে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪.৫ শতাংশ এবং মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মাত্র ১৩ শতাংশ আছে যুক্তরাষ্ট্রে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে যার যত অভিযোগই থাকুক, উপরের পরিসংখ্যানগুলো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে কে!
আমরা যখন নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করছি, কে বেশি ভাল, কোন দল দেশের কতটা উন্নতি করেছে আর দেশের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে উন্নয়নের দিক থেকে মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, বাকি পৃথিবী তখন এগিয়ে চলেছে। এখন উন্নত সময়ে উন্নতি করতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরা ছাড়া আর কোন পথ নেই। নিজেদের মাঝে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে, ব্যবহার বাড়াতে হবে। এক সময়ে নিজেরাই আমরা নিজেদের মত করে দাড়িয়ে যাব, এই স্বপ্ন দেখতেই পারি।

0 comments:

Post a Comment