আসুন না, প্রযুক্তির দুনিয়াটাকে একটু কাছ থেকে দেখি…

মিরর টিভি: আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন…
এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি। আমাদের নিত্য ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদিগুলোর মাঝে যখন প্রযুক্তি যুক্ত হয়ে যেতে থঅকে, নি:সন্দেহে একটি বিশ্বয়কর ব্যপার হয়ে দাড়ায় তা। কেমন হয় যদি আয়না হঠাত করে হয়ে যায় টেলিভিশন?
হল্যান্ডের বিখ্যাত রয়েল ফিলিপস ইরেকট্রনিক্স ‘মিরর টিভি’ নামে একটি নতুন ধরনের টেলিভিশন উদ্ভাবন করেছে। ১৭, ২৩ এবং ৩০ ইঞ্চি স্ক্রিনসমৃদ্ধ এই টিভিকে বাড়িতে ব্যবহৃত আয়নার মধ্যে অর্ন্তভুক্ত করে দেয়া যায়। এর মানে হল, আয়নার মধ্যে টিভি দেখা চলবে, তবে সেটা টিভিতে আয়নার প্রতিচ্ছবি নয়, সরাসরি টিভিই চলবে আয়নার মধ্যে। এই টিভিতে একটি অনন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আয়নার গায়ে টেলিভিশনের পর্দাকে ফুটিয়ে তোলে। ভবিষ্যতের অসাধারণ সব ইলেট্রকনিক্স পণ্য তৈরি করার জন্য ‘ফিলিপস হোম ল্যাব’ নামে একটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে ফিলিপস। সেই হোমল্যাবস-এরই সাধারণ একটি উদ্ভাবন এই আয়না টেলিভিশন।
অতি সম্প্রতি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে মিরর টিভির সফল প্রদর্শনী সম্পন্য করেছে ফিলিপস। হোমল্যাবস-এর গবেষণাগারে ২০০-র মত ভোক্তার সামনে এটিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর এর আরো পরিশীলিত একটি নমুনা চূড়ান্ত ভাবে তৈরি করার কথা ভাবছে ফিলিপস।
হোটেলে টেলিভিশন সরবরাহকারীদের মধ্যে ফিলিপস-এর নাম সারা বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে। এ কারণে সবার আগে তারা হোটেলগুলোতে মিরর টিভিকে প্রচলন করতে চাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে গৃহস্থালী বাজারের দিকেও দৃষ্টি আছে তাদের। ফিলিপস-এর কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স সেকশনের প্রধান ড. গটফ্রিড ডুটিন এ টিভির ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী। ‘ফিলিপস এবং কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স উভয়ের জন্যই এই মিরর টিভি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের দুটি গুরুত্বপুর্ন কাজ – টিভি দেখা এবং আয়না ব্যবহার করাকে একসূত্রে গ্রথিত করেছে এই টিভি’, ড. ডুটিন বলেন।
হোটেল এবং বাসাবাড়িতে স্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। স্থান সংকুলান করতে না পারায় অনেকেই আসবাবপত্র কিনতে বা ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। ফিলিপস-এর এই আয়না টিভির যেহেতু বাড়তি কোনো জায়গা লাগে না সেহেতু এটিকে যে কোনো স্থানেই ব্যবহার করা সম্ভব। এর ডিজাইনটি এমন যে, ইলেকট্রনিক্স-এর গোটা অংশকেই লুকিয়ে রাখা হয়, ফলে নান্দনিকতার বিচারেও এটি এগিয়ে।
সর্বোচ্চ ৩০ ইঞ্চি ডিসপেবিশিষ্ট এই মিরর টিভি আয়না ছাড়াও ঘরের দেয়ালসহ যে কোনো স্থানেই স্থাপন করা যাবে। ফিলিপস কর্তৃপ মনে করেন, কেবল টিভি প্রোগ্রামই নয়, এর বাইরেও মিরর টিভির আরো অনেক কার্যকারিতা রয়েছে। উদাহরণস্বরপ, হোটেলে বিল প্রদান করা বা অর্থের বিনিময়ে চলচ্চিত্র দেখার জন্যও এ টিভি ব্যবহৃত হতে পারে। আবার ডেস্কটপ/ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে একে ব্যবহার করতেও সমস্যা নেই। ল্যাপটপ বা হোম পিসিকে এ টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করে এটিকে কম্পিউটার মনিটর হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। তখন নানা রকমের প্রেজেন্টেশন থেকে শুরু করে ওয়েব ব্রাউজিং-এর জন্যও মিরর টিভি কাজে আসবে।
এখন দেথা যাক এই মিররটিভি কবে আমাদের দেশে আসে। তবে এটা বলে দেয়া যায়, খুব বেশি দিন সময় নেবে না।
0 comments:
Post a Comment