Search This Blog

ক্লাউড কম্পিউটিং

Tuesday, August 16, 2011

ক্লাউড কম্পিউটিং: আগামী দিনের কম্পিউটিং?
http://morristrends.com/files/2010/12/cloud-computing.jpg
ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ধরন

ক্লাউড কম্পিউটিং-এর বিভিন্ন ধরনের মধ্যে আছে:
পাবলিক ক্লাউড


পাবলিক কাউড বা বহিস্থ (external) কাউড বলতে কাউড কম্পিউটিং-এর প্রথাগত মূলধারাটিকেই বোঝানো হয়। এখানে বিভিন্ন কম্পিউটিং রিসোর্স ইন্টারনেটে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েব সেবার আকারে প্রদান করা
হয়। সেবাপ্রদানের কাজটি করে থার্ড পার্টি কোনো সার্ভিস প্রোভাইডার।



কমিউনিটি ক্লাউড:

একাধিক প্রতিষ্ঠানের যদি একই ধরনের চাহিদা থাকে এবং একই অবকাঠামো ব্যবহারে যদি তাদের আপত্তি না থাকে তাহলে কমিউনিটি ক্লাউড মডেল ব্যবহার করা যায়। পাবলিক কাউডের চাইতে এক্ষেত্রে  খরচাপাতি বেশি পড়ে যায় কারণ তুলনামলক কমসংখ্যক ব্যবহারকারীকে রিসোর্স ব্যবহারের ব্যয়ভার বহন করতে হয়। তবে এটি পাবলিক কাউডের চাইতে অধিকতর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে।

হাইব্রিড ক্লাউড

হাইব্রিড ক্লাউড এনভায়রনমেন্টে একাধিক অভ্যন্তরীন বা বহিস্থ সেবাদাতা প্রতিষ্টান একই সঙ্গে কাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদান করে। একাধিক ক্লাউড সেবাকে একত্রিত করার মাধ্যমে ববহারকারীরা বহুমুখী সেবার সুবিধা নিতে পারেন।

প্রাইভেট ক্লাউড

ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মধ্যে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদানকে ইদানীং কেউ কেউ প্রাইভেট ক্লাউড বলে অভিহিত করছেন। উপাত্ত নিরাপত্তা, কর্পোরেট গভর্নেন্স এবং নির্ভরযোগ্যতার ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েই এ ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। এজন্য অনেকে মনে করেন, ক্লাউড কম্পিউটিং-এর কুফলকে বাদ দিয়ে শুধু সুফল বা ভাল দিকগুলোর সুবিধা নেয়ার জন্য প্রাইভেট কাউড একটি আদর্শ মডেল। তবে খরচের দিক থেকে এখানে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না।

ইন্টারক্লাউড

ইন্টারনেট যেমন একটি গোবাল নেটওয়ার্ক অব নেটওয়ার্কস, ইন্টারক্লাউড তেমনি একটি ইন্টারকানেক্টেড (আন্তসম্পর্কিয়) গ্লোবাল ক্লাউড অব ক্লাউডস। ইন্টারক্লাউড ধারণার প্রবক্তারা বলেন, আলাদা আলাদা বিভিন্ন কাউডের সম্পদ বা মতাগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একবার এ সীমা স্পর্শ করে ফেললে আর বাড়তি ব্যবহারকারীর প্রয়োজন মেটানো যাবে না। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্লাউড যদি অন্য ক্লাউড গুলোর সম্পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকে না এবং ক্লাউড কম্পিউটিং- এর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাকে তখন ব্যবহার করা যাবে।

আসুস, ডেল এরমত বড় বড় নোটবুক কোম্পানীগুলো ইতোমধ্যেই এমন নেটবুক বার করে ফেলেছে যাতে বিভিন্ন কাজের অ্যপ্লিকেশন ইন্সটল করা নেই। শুধু একটি অপারেটিং সিস্টেম থাকে তাতে যেটা কিনা বিশেষ ভাবে তৈরি যেন তা ইন্টারনেটের সব সুবিধা পুর্নাঙ্গভাবে নিতে পারে। আর বাকি সব প্রোগ্রাম ও তার ফাইল থাকবে ক্লাউডে। আপনি যে ফাইলে কাজ করবেন, তা থাকবে ক্লাউডে, আপনার দরকারে সাময়িকভাবে তা ক্লাউড থেকে আপনার টার্মিনালে নেমে আসবে, এডিট হবার পরে আবার সেটা সেভ হবে কাউডে। আপনার দরকারী সব প্রোগ্রাম এর সব থাকবে ক্লাউডে। উচ্চ ব্যন্ডউইথ সম্পন্য ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে প্রয়োজনের ভিত্তিতে সেগুলো লোড করা হবে টার্মিনাল পিসি বা নোটবুকে। আপনার গানের সংগ্রহ থাকবে অনলাইনে। আপনি সেগুলো শুনতে পারবেন স্ট্রিমে। মুভি অথবা অন্য যেকোন কিছু দেখতে আপনাকে তা ডাউনলোড করতে হবে না। সরাসরি দেখুন অনলাইনে।

অন ডিমান্ড কম্পিউটিং পাওয়ার

আপনি সাধারণ মানুষ, টুকটাক কাজ করেন।  হঠাৎ আপনার দরকার হয়ে পড়ল একটি বিশাল ক্ষমতা সম্পন্য কম্পিউটার। হয়ত আপনি কোন ভিডিও এডিট করবেন, অথবা আপনার ক্লাসের থ্রিডি প্রজেক্ট রেন্ডার করার দরকার হয়ে পড়ল। আপনার দুর্বল ছোটখাট পিসিতে সেই কাজ করতে সময় লাগবে হয়ত কয়েক সপ্তাহের কিছু কম। কি করবেন আপনি? বাজারে দৌড়ুবেন নতুন পিসি কিনতে? নাকি কোন বন্ধুর কাছে যাবেন, যার কিনা আছে একটি শক্তিশালী পিসি?
সে রকম বন্ধু থাকলে তো ভালই। কিন্তু তার পিসি কি যথেষ্ট শক্তিশালী আপনার কাজটি খুব তাড়াতাড়ি সম্পন্য করে দেবার মত? বর্তমান সময়ে আপনি অনেকখানিই অসহায়। কিন্তু আগামী দিনে আপনাকে এই নিয়ে চিন্তা করতে হবে না একদম। আপনার বাড়তি কম্পিউটিং শক্তি দরকার? আপনি নেটওয়ার্ক থেকে সেই শক্তিটুকু নিয়ে আসুন। কোন না কোন ক্লাউড সিস্টেম আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। নেটওয়ার্কে থাকা অনেকগুলো কম্পিউটারে আপনার কাজটিকে ভাগ করে দেবে ক্লাউড সিম্টেম। আপনার কাজ হবে তড়িৎ গতিতে। কাজ শেষ, কাজের পয়সা চুকিয়ে আপনি শান্তিতে।

ভবিষ্যত কম্পিউটিং ক্লাউড কম্পিউটিং। প্রত্যেকের বাড়িতে নিজের পিসি থাকার দরকার হবে না কোন। সবাই ব্যবহার করবে কোন একটি টার্মিনাল, যেটা ব্যবহার করে উচ্চগতি সম্পন্য নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে সবাই যার যার দরকারী কাজ সারবে। যেকোন স্থান থেকে, যে কোন সময়ে। দরকার হবে না কোন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্য সিস্টেম। যখন যেটুকু রিসোর্স দরকার, ততটুকু রিসোর্স নিয়ে নিন ক্লাউড থেকে। সায়েন্স ফিকশন এর মত শুনাচ্ছে, তাই না?

0 comments:

Post a Comment