বানিয়ে ফেলুন নিজের ইউটিউব চ্যানেল: মেলে ধরুন নিজেকে।
ইউটিউব বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েব সাইট। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ভিডিও দেখা এবং একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য ব্যবহার করেন ইউটিউবকে। ইউটিউব-এর মেইন পেজে গিয়ে ভিডিও খোঁজা বা শেয়ার করার সুযোগতো আপনার সব সময়ই থাকছে, কিন্তু ইউটিউব-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর চ্যানেল। চ্যানেলগুলো ইউজারের আপলোড, প্রিয় ভিডিও, প্লেলিস্ট ইত্যাদি সব কিছুকে এক জায়গায় নিয়ে আসে।
একবার চ্যানেল বানিয়ে ফেললে অন্য ইউজাররা তখন সে চ্যানেলের গ্রাহক হতে পারেন। তারপর চ্যানেল নির্মাতার নতুন ভিডিও আপলোড হলে বা তাঁর কোনো আপডেট পোস্ট করা হলে সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবাররা জানতে পারেন। বর্তমানে ইউটিউব-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যানেলের নাম ‘ফেইলব্লগ’ (Failblog), অবশ্য এর পাশাপাশি আছে অসংখ্য জনপ্রিয় সব চ্যানেল। হোয়াইট হাউস এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এরও আছে ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেল।
ইউটিউব বর্তমানে চ্যানেলের নতুন একটি কাঠামো ডিজাইন চালু করেছে। আগামী এক বছরের মধ্যেই পুরনো চ্যানেলগুলো আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে নতুন ডিজাইনে চলে যাবার জন্য বলা হবে। কাজেই ইউটিউব ব্যবহারকারীদের উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব নতুন ডিজাইনের এ চ্যানেলে চলে যাওয়া। অবশ্য আপনি যদি নতুন ইউজার হন তাহলে তো আর কথাই নেই। বর্তমানে নতুন ডিজাইনটাই ইউটিউব-এর ডিফল্ট চ্যানেল কাঠামো। কাজেই শুরু থেকেই আপনি থাকতে পারবেন নতুন ডিজাইনে।
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল হতে পারে নিজেকে মেলে ধরার অসাধারণ একটি উপায়
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল হতে পারে নিজেকে মেলে ধরার অসাধারণ একটি উপায়
আপনি যখন প্রথম চ্যানেল তৈরি করবেন, শুরুতে আপনার চ্যানেলটি থাকবে এরকমই নিরস, সাদামাটা আর একঘেয়ে। তবে চ্যানেলের সাথে থাকা দুরুন সব কাস্টমাইজেশন টুলস ব্যবুহার করে আপনি আপনার চ্যানেলটি আপনার পছন্দ মত সাজিয়ে নিতে পারেন।
চ্যানেলের একেবারে উপরে আছে অনেকগুলো অপশনসমৃদ্ধ মেন্যু, যার সাহায্যে বিশেষ কোনো দক্ষতা বা কোনো ঝামেলা ছাড়াই নানা রকমের কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন। চ্যানেলে নতুন বুলেটিন যোগ করলে এর চেহারায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। ফেসবুকের স্ট্যাটাস-এর মতই বুলেটিন হচ্ছে ইউটিউব চ্যানেলের যে কোনো আপডেট বা পরিবর্তন সম্বন্ধে সাবস্ক্রাইবারদেরকে অবহিত করা। নতুন ভিডিও আপলোড করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা সাবস্ক্রাইবারদেরকে নিউজ ফিডের মাধ্যমে জানানো হবে।
এরপর আছে সেটিংস ট্যাব। আপনার চ্যানেলের কোনো শিরোনাম যে থাকতেই হবে এমন কোনো কথা নেই, তবে শিরোনাম থাকলে সাবস্ক্রাইবারদের সুবিধা হবে, যেমন: “পারিবারিক ছুটি উদযাপন”, “আমার প্রিয় বিড়ালটির ভিডিও” ইত্যাদি। চ্যানেলের ট্যাগও মূলত একইভাবে কাজ করে, অনুসন্ধানের সময় আপনার চ্যানেলের ফোকাসটা কি তা যেন অনুসন্ধানকারী সহজেই বুঝতে পারবেন।
‘চ্যানেল টাইপ’ জানায় আপনি কোন ধরনের ইউজার – ইউটিউবার (স্ট্যান্ডার্ড), ডিরেক্টর, মিউজিশিয়ান, কমেডিয়ান, গুরু নাকি রিপোর্টার। এছাড়া সেটিং ট্যাবে আরো আছে আপনার চ্যানেলকে অদৃশ্য করে দেয়ার সুযোগ, তবে এ সুযোগটা নিলে সাধারণ কোনো ইউজার আর আপনার চ্যানেলে অ্যাকসেস নিতে পারবে না। সুন্দর একটা চ্যানেল বানাবার পর সেটা সবাই দেখতে না পেলে খারাপ হবে, তাই না?
‘থিমস অ্যান্ড কালার’ ট্যাব ব্যবহার করে পেজের রঙ পরিবর্তন করতে পারবেন। এখানে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বেশ কিছু থিম আছে। তবে যে কোনো থিমের বিভিন্ন উপাদানকে পরিবর্তন করে আপনি নিজেও নতুন থিম তৈরি করতে পারবেন। এমনকি পারবেন একেবারে নতুন করে আপনার নিজস্ব থিমও তৈরি করতে। কেবল রঙই নয়, আপনার পেজের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ছবিও ব্যবহার করতে পারবেন।
এবার আসা যাক মডিউল ট্যাবের কথায়। এর সাহায্যে আপনি চ্যানেলস পেজের বিভিন্ন বিভাগকে এক সঙ্গে বা আলাদা করতে পারবেন। কমেন্ট, অন্যান্য চ্যানেল, আপনার বন্ধুবান্ধব, আপনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, আপনি কোথায় কোথায় সাবস্ক্রাইব করেছেন বা কে আপনার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করেছেন ইত্যাদি তথ্য প্রদর্শন করতে পারবেন। আপনার ইচ্ছেমত বিভিন্ন মডিউলগুলো পেজের যেখানে খুশি সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন।
ইউটিউব-এর মডিউল ট্যাব ‘ভিডিওস অ্যান্ড পেলিস্ট’ ট্যাব আপনার চ্যানেলে কোন কোন ভিডিও দেখা যাবে সেটা নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি ইচ্ছে করলে কেবল নিজের আপলোড করা বা আপনার প্রিয় ভিডিওগুলোই প্রদর্শন করতে পারেন। এছাড়া কোন কোন ভিডিওকে আপনি ‘ফিচারড’ ভিডিও হিসেবে রাখতে চান তাও নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন।
আপনার চ্যানেলকে পারসোনালাইজ করার চূড়ান্ত ধাপ হচ্ছে একটি ইউজার পিকচার আপলোড করা। আপনার অ্যাকাউন্ট সেটিং-এ যান এবং একটি ইউজার পিকচার আপলোড করুন। এটি যে আপনার নিজের ছবিই হতে হবে তা নয়, তবে ডিফল্ট ছবির জায়গাটাকে শূন্য রাখলে আপনার চ্যানেলটাকে ভাল দেখাবে না।
একটা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে যা যা লাগে তা মোটামুটি সবই দেখানো হয়েছে। বাকি টুকু আপনার। সুন্দর সব ভিডিও তৈরি করুন, নিজের ক্যামেরাই হোক আর হাতের মুঠোফোনটা ব্যবহার করেই হোক না কেন, ভাল, মানসম্মত ভিডিও নিয়মিত আপলোড করতে খাকুন। আপনার চ্যানেল আর দশটি জনপ্রিয় চ্যানেলের সমান কিংবা তাদের থেকেও বেশি জনপ্রিয় হতে কে ঠেকাচ্ছে?
0 comments:
Post a Comment